লোন ক্যালকুলেটর
ঋণের পরিমাণ, বার্ষিক সুদের হার ও মেয়াদ দিয়ে আনুমানিক মাসিক কিস্তি, মোট সুদ এবং মোট পরিশোধ হিসাব করুন। চাইলে processing fee ও অন্যান্য upfront cost যোগ করে মোট প্রাথমিক খরচও দেখতে পারবেন।
লোন ক্যালকুলেটর কী হিসাব করে?
লোন ক্যালকুলেটর ঋণের মূলধন, বার্ষিক সুদের হার এবং মেয়াদ ব্যবহার করে আনুমানিক মাসিক কিস্তি বা EMI হিসাব করে। একই সঙ্গে পুরো মেয়াদে কত টাকা কিস্তি হিসেবে পরিশোধ হবে এবং তার মধ্যে কত অংশ সুদ, সেটিও দেখা যায়।
এই পৃষ্ঠার মূল হিসাবটি monthly reducing-balance পদ্ধতির standard EMI formula ধরে করা হয়। অর্থাৎ প্রতি মাসে আগের কিস্তির পর বকেয়া মূলধনের ওপর সুদ হিসাব হয়। ফলে কিস্তির শুরুতে সুদের অংশ তুলনামূলক বেশি এবং সময়ের সঙ্গে মূলধন পরিশোধের অংশ সাধারণত বাড়তে থাকে।
ঋণের সুদ কীভাবে কিস্তিতে ভাগ হয়?
ধরা যাক, কোনো ঋণের বকেয়া মূলধন ৫,০০,০০০ টাকা এবং মাসিক সুদের হার ১%। সেই মাসের সুদ হবে ৫,০০০ টাকা। EMI যদি তার চেয়ে বেশি হয়, বাকি অংশ মূলধন কমাতে ব্যবহার হবে। পরের মাসে বকেয়া মূলধন কমে গেলে সুদের অংশও কমে আসে। এই কারণেই reducing-balance loan-এ পুরো মেয়াদে সুদের হিসাব ধীরে ধীরে বদলায়।
চিত্রটি calculator-এর input অনুযায়ী বকেয়া মূলধনের আনুমানিক trend দেখায়। ফল দেখাতে হিসাব করার পর চিত্রটি তৈরি হবে।
একটি বাস্তব উদাহরণ
৫,০০,০০০ টাকা ঋণ, বার্ষিক ১০% সুদ এবং ৬০ মাস মেয়াদ ধরলে মাসিক EMI প্রায় ১০,৬২৩.৫২ টাকা। ৬০টি কিস্তিতে মোট পরিশোধ হবে প্রায় ৬,৩৭,৪১১.৩৪ টাকা। এর মধ্যে মোট সুদ প্রায় ১,৩৭,৪১১.৩৪ টাকা।
| মেয়াদ | মাসিক EMI | মোট সুদ |
|---|---|---|
| ৩ বছর | প্রায় ১৬,১৩৩.৫৯ টাকা | প্রায় ৮০,৮০৯.৩৭ টাকা |
| ৫ বছর | প্রায় ১০,৬২৩.৫২ টাকা | প্রায় ১,৩৭,৪১১.৩৪ টাকা |
| ৭ বছর | প্রায় ৮,৩০০.৫৯ টাকা | প্রায় ১,৯৭,২৪৯.৭৩ টাকা |
এখানে দেখা যাচ্ছে, মেয়াদ বাড়ালে মাসিক কিস্তি কমে। কিন্তু একই ঋণের ওপর দীর্ঘ সময় সুদ দিতে হয় বলে মোট সুদ বেড়ে যায়। তাই শুধু EMI কম কি না দেখলেই ঋণের খরচ বোঝা যায় না।
০% সুদ হলে
যদি সুদের হার ০% হয়, তাহলে compound interest অংশটি আর প্রযোজ্য থাকে না। সেক্ষেত্রে সরলভাবে EMI = P ÷ n। যেমন, ১,২০,০০০ টাকা ১২ মাসে ০% সুদে পরিশোধ করলে মাসিক কিস্তি হবে ১০,০০০ টাকা।
বাংলাদেশে লোনের সুদের হার
বাংলাদেশে ব্যাংক ঋণের সুদের হার সব ধরনের ঋণের জন্য একই নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ মে ২০২৪-এর নির্দেশনায় market-based loan interest system চালুর কথা বলা হয়েছে। ব্যাংক sector-specific interest rate ঘোষণা করতে পারে এবং গ্রাহকের risk profile অনুযায়ী ঘোষিত হারের ১% কম বা বেশি দিতে পারে। Fixed বা variable rate হলে sanction letter-এ সেটিও উল্লেখ থাকার কথা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্যেও বিভিন্ন খাতে lending rate-এর আলাদা range দেখা যায়। তাই এই calculator কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংকের rate preset করে না। আপনার sanction letter বা ঋণদাতার ঘোষিত annual interest rate ব্যবহার করাই সঠিক পদ্ধতি।
গুরুত্বপূর্ণ: EMI-এর সঙ্গে processing fee, insurance, VAT, documentation charge বা অন্য কোনো fee থাকলে শুধু মাসিক কিস্তি দেখে ঋণের প্রকৃত খরচ বোঝা যায় না। এই calculator-এ processing fee ও অন্যান্য upfront cost আলাদা ঘরে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
Reducing balance আর flat rate এক নয়
Reducing-balance পদ্ধতিতে প্রতি মাসে বকেয়া মূলধনের ওপর সুদ হিসাব করা হয়। Flat-rate পদ্ধতিতে অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে নির্ধারিত পুরো মূলধনের ওপর নির্দিষ্ট হারে সুদ ধরে কিস্তি তৈরি করা হয়। তাই একই ১০% নামমাত্র rate হলেও দুই পদ্ধতির মোট খরচ এক নাও হতে পারে।
কোনো ব্যাংক বা ঋণদাতা যদি flat rate বা অন্য কোনো বিশেষ repayment method ব্যবহার করে, এই calculator-এর reducing-balance ফলের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার আগে পদ্ধতিটি নিশ্চিত করুন।
মেয়াদ, সুদ ও কিস্তির সম্পর্ক
ঋণের পরিমাণ অপরিবর্তিত রেখে সুদের হার বাড়লে সাধারণত EMI ও মোট সুদ দুটোই বাড়ে। সুদের হার অপরিবর্তিত রেখে মেয়াদ বাড়ালে EMI কমতে পারে, কিন্তু মোট সুদ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ঋণ তুলনা করার সময় অন্তত তিনটি বিষয় একসঙ্গে দেখা উচিত: মাসিক কিস্তি, মোট সুদ এবং মোট পরিশোধ।