ডিপিএস ক্যালকুলেটর
মাসে কত টাকা জমাবেন, বার্ষিক মুনাফার হার কত এবং কত মাস/বছর চালাবেন - এই তথ্য দিয়ে ডিপিএসের মোট জমা, আনুমানিক মুনাফা ও মেয়াদপূর্তির অর্থ হিসাব করুন।
ডিপিএস কী?
ডিপিএস হলো নিয়মিত সঞ্চয়ের একটি ব্যবস্থা। আপনি নির্দিষ্ট সময় পরপর একটি নির্দিষ্ট টাকা জমা দেন। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে জমা টাকার সঙ্গে মুনাফা বা সুদ যোগ হয়। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানভেদে কিস্তির পরিমাণ, মেয়াদ, মুনাফার হার এবং অন্যান্য শর্ত আলাদা হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের DPS-সংক্রান্ত নির্দেশনায়ও কিস্তির পরিমাণ, মেয়াদ এবং মুনাফার হারকে প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তাই সব DPS-এর জন্য একটি নির্দিষ্ট হার বা maturity amount ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
এই ক্যালকুলেটর কীভাবে কাজ করে?
প্রথমে মাসিক কিস্তির পরিমাণ, বার্ষিক মুনাফার হার এবং মোট মেয়াদ দিন। ক্যালকুলেটর বার্ষিক হারকে মাসিক হারে রূপান্তর করে। এরপর প্রতিটি মাসের কিস্তির ওপর মাসিক চক্রবৃদ্ধির প্রভাব ধরে আনুমানিক মেয়াদপূর্তির অর্থ বের করে।
এই মডেলে কিস্তি মাসের শেষে জমা হচ্ছে ধরা হয়েছে। তাই একই বার্ষিক হার হলেও কোনো ব্যাংকের নিজস্ব maturity table-এর সঙ্গে ফল পুরোপুরি এক নাও হতে পারে।
মাসিক কিস্তি বাড়ালে কী হয়?
একই মুনাফার হার ও মেয়াদে মাসিক কিস্তি বাড়ালে মোট জমা বাড়ে। এর সঙ্গে মুনাফার পরিমাণও সাধারণত বাড়ে। কারণ বেশি টাকা প্রতি মাসে সঞ্চয়ে যোগ হয় এবং সেই টাকার ওপরও মুনাফা হিসাব হয়।
| মাসিক কিস্তি | ৬০ মাসে মোট জমা |
|---|---|
| ৳২,০০০ | ৳১,২০,০০০ |
| ৳৫,০০০ | ৳৩,০০,০০০ |
| ৳১০,০০০ | ৳৬,০০,০০০ |
উপরের টেবিলে শুধু জমার পরিমাণ দেখানো হয়েছে। মুনাফা যোগ হলে মেয়াদপূর্তির অর্থ আরও বেশি হবে।
একটি সহজ উদাহরণ
ধরা যাক, আপনি প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা জমাবেন। বার্ষিক মুনাফার হার ১০% এবং মেয়াদ ৬০ মাস। এই ক্যালকুলেটরের মাসিক চক্রবৃদ্ধি ও মাসের শেষে কিস্তি জমার মডেলে মোট জমা হবে ৩,০০,০০০ টাকা। মুনাফা যোগ হলে আনুমানিক মেয়াদপূর্তির অর্থ প্রায় ৩,৮৭,১৮৫ টাকা হতে পারে।
এটি একটি গাণিতিক উদাহরণ। আপনার ব্যাংক একই হারে ভিন্ন পদ্ধতিতে হিসাব করলে প্রকৃত maturity amount আলাদা হতে পারে।
মুনাফার হার কোথা থেকে নেবেন?
ক্যালকুলেটরে যে হার দেবেন, সেটি আপনার নির্দিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বর্তমান DPS rate sheet থেকে নেওয়া ভালো। ব্যাংকভেদে হার বদলাতে পারে। একই প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন স্কিম ও মেয়াদেও আলাদা হার থাকতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় DPS-এর interest rate এবং type প্রতিষ্ঠানভেদে নির্ধারণযোগ্য রাখা হয়েছে।
তাই কোনো ওয়েবসাইটে দেখা একটি সাধারণ হার সব ব্যাংকের জন্য ব্যবহার করবেন না। আপনার স্কিমের rate sheet দেখেই হার দিন।
উৎসে করের বিষয়টি
ডিপিএসের মুনাফা বা সুদের ওপর প্রযোজ্য কর থাকলে হাতে পাওয়া অর্থ কমে যেতে পারে। করের হার আপনার হিসাব ও প্রযোজ্য নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই এই ক্যালকুলেটরে উৎসে করের হার আলাদা করে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। আপনার ক্ষেত্রে যে হার প্রযোজ্য, সেটি নিশ্চিত করে ব্যবহার করুন।