রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (ROI) ক্যালকুলেটর
আপনি কত টাকা বিনিয়োগ করেছেন এবং শেষে সেই বিনিয়োগের মূল্য কত হয়েছে, তা লিখে ROI হিসাব করুন। বিনিয়োগের সময়কাল দিলে মোট ROI-এর পাশাপাশি বার্ষিকীকৃত ROI-ও দেখা যাবে।
রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (ROI) কী?
রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট বা ROI হলো কোনো বিনিয়োগের তুলনায় কত লাভ বা ক্ষতি হয়েছে, সেটি শতাংশে প্রকাশ করার একটি সহজ মাপকাঠি। বিনিয়োগের পরিমাণের তুলনায় পাওয়া ফল কতটা হয়েছে, তা দ্রুত বোঝার জন্য ব্যবসা ও বিনিয়োগের নানা ক্ষেত্রে ROI ব্যবহার করা হয়।
ধরা যাক, আপনি ১,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করলেন এবং পরে সেই বিনিয়োগের মূল্য হলো ১,২০,০০০ টাকা। তাহলে লাভ হয়েছে ২০,০০০ টাকা। এই লাভকে প্রাথমিক বিনিয়োগের সঙ্গে তুলনা করলে ROI পাওয়া যায় ২০%।
এই ক্যালকুলেটর কীভাবে কাজ করে?
প্রথমে প্রাথমিক বিনিয়োগের পরিমাণ এবং বিনিয়োগ শেষে পাওয়া বা হিসাব করা মূল্য দেওয়া হয়। শেষ মূল্য থেকে প্রাথমিক বিনিয়োগ বাদ দিলে লাভ বা ক্ষতি পাওয়া যায়। এরপর সেই লাভ বা ক্ষতিকে প্রাথমিক বিনিয়োগ দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করা হয়। এতে মোট ROI শতাংশ পাওয়া যায়।
আপনি যদি বিনিয়োগের সময়কালও দেন, তাহলে একই ফলকে সময়ের ভিত্তিতে বার্ষিকীকৃত ROI হিসেবে দেখানো হবে। এতে ভিন্ন মেয়াদের বিনিয়োগের ফল তুলনা করার সময় সময়ের পার্থক্যটি আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়।
ROI-এর সূত্র
এখানে শেষ মূল্য হলো বিনিয়োগের সময়কাল শেষে পাওয়া বা নির্ধারিত মূল্য। শেষ মূল্য প্রাথমিক বিনিয়োগের চেয়ে বেশি হলে ROI ধনাত্মক হবে। কম হলে ROI ঋণাত্মক হবে এবং সেটি ক্ষতি বোঝাবে।
বার্ষিকীকৃত ROI কী?
একটি বিনিয়োগে ২০% ROI এক বছরে পাওয়া এবং একই ২০% ROI পাঁচ বছরে পাওয়া এক বিষয় নয়। সাধারণ ROI সময়কে সরাসরি বিবেচনায় নেয় না। তাই ভিন্ন সময়ের বিনিয়োগ তুলনা করতে বার্ষিকীকৃত ROI বেশি তথ্য দিতে পারে।
এই হিসাবের জন্য বিনিয়োগের সময়কাল শূন্যের বেশি হতে হবে এবং শেষ মূল্য শূন্যের বেশি হওয়া প্রয়োজন। এটি একটি সরল time-adjusted return; নিয়মিত অতিরিক্ত টাকা বিনিয়োগ বা মাঝপথে টাকা তোলার মতো cash flow থাকলে এই সূত্র পুরো বিনিয়োগের ফল প্রকাশ করে না।
একটি সহজ উদাহরণ
ধরা যাক, একটি ব্যবসায় ২,০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করা হলো। পরে বিনিয়োগের মূল্য দাঁড়াল ২,৫০,০০০ টাকা। তাহলে লাভ হবে ৫০,০০০ টাকা।
ROI = ৫০,০০০ ÷ ২,০০,০০০ × ১০০ = ২৫%। যদি এই ফল ২ বছরে পাওয়া যায়, তাহলে বার্ষিকীকৃত ROI সাধারণ ROI-এর চেয়ে কম হবে, কারণ একই লাভ অর্জন করতে বেশি সময় লেগেছে।
ROI হিসাব করার সময় কী খেয়াল রাখবেন?
প্রাথমিক বিনিয়োগের পরিমাণ ঠিকভাবে নির্ধারণ করা জরুরি। ক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত ফি, পরিবহন, লেনদেন খরচ বা অন্য কোনো ব্যয় আপনার হিসাবের অংশ হলে সেগুলোও বিনিয়োগের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে পারেন। একইভাবে শেষ মূল্য নির্ধারণের সময় প্রাসঙ্গিক বিক্রয় খরচ বা অন্য ব্যয় কীভাবে ধরবেন, তা আগে ঠিক করে নিন।
এই ক্যালকুলেটর নিজে থেকে কর, ফি, লভ্যাংশ, সুদ বা নিয়মিত cash flow শনাক্ত করে না। তাই সঠিক ফল পেতে আপনার হিসাবের উদ্দেশ্য অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক সব তথ্য সঠিকভাবে দিন।
ROI-এর সীমাবদ্ধতা
ROI একটি সহজ ও দ্রুত মাপকাঠি হলেও এটি বিনিয়োগের সব দিক দেখায় না। ঝুঁকি, সময়, নিয়মিত নগদ প্রবাহ, অতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং করের প্রভাব আলাদা বিষয়। দুটি বিনিয়োগের ROI একই হলেও তাদের সময়কাল বা ঝুঁকি আলাদা হতে পারে।
তাই ROI-কে একটি প্রাথমিক তুলনার মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করা ভালো। বড় আর্থিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অন্যান্য তথ্যও বিবেচনা করা উচিত।