এসএসসি জিপিএ ক্যালকুলেটর
এসএসসি পরীক্ষার সম্ভাব্য জিপিএ হিসাব করতে আপনার বিষয়গুলোর মোট প্রাপ্ত নম্বর দিন। গ্রুপ অনুযায়ী বিষয় সাজিয়ে ক্যালকুলেটরটি Grade Point, মূল বিষয়গুলোর গড় এবং ৪র্থ বিষয়ের bonus আলাদা করে দেখাবে।
এসএসসি জিপিএ কীভাবে বোঝবেন?
এসএসসি ফলাফলে প্রতিটি বিষয়ের নম্বর একটি নির্দিষ্ট গ্রেড ও Grade Point-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই শুধু মোট নম্বর জানলেই জিপিএ বোঝা যায় না। প্রতিটি বিষয়ের ফলকে আগে Grade Point-এ রূপান্তর করতে হয়। এরপর মূল বিষয়গুলোর Grade Point থেকে গড় বের করা হয়।
৪র্থ বা ঐচ্ছিক বিষয় এখানে আলাদা ভূমিকা রাখে। এই বিষয়টির পুরো Grade Point মূল গড়ের সঙ্গে যোগ করা হয় না। ২.০০-এর বেশি যে অংশ থাকে, সেটি bonus হিসেবে মূল হিসাবের সঙ্গে যোগ হয়। ফলে একই ধরনের নম্বর পেলেও ৪র্থ বিষয়ের ফল মোট জিপিএতে ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।
এসএসসি-তে গ্রেড ও Grade Point
| শতকরা নম্বর | গ্রেড | Grade Point |
|---|---|---|
| ৮০-১০০ | A+ | ৫.০০ |
| ৭০-৭৯ | A | ৪.০০ |
| ৬০-৬৯ | A- | ৩.৫০ |
| ৫০-৫৯ | B | ৩.০০ |
| ৪০-৪৯ | C | ২.০০ |
| ৩৩-৩৯ | D | ১.০০ |
| ০-৩২ | F | ০.০০ |
কোনো বিষয়ের পূর্ণমান ১০০ বা ২০০ হলেও Grade Point নির্ধারণের ক্ষেত্রে সেই বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বরের শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ। তাই দুই পত্রের বিষয় হলে প্রয়োজন অনুযায়ী দুই পত্রের মোট নম্বর একত্রে ব্যবহার করতে হবে।
৪র্থ বিষয়ের bonus কীভাবে কাজ করে?
৪র্থ বিষয়ের Grade Point থেকে ২.০০ বাদ দেওয়ার পর ধনাত্মক যে অংশ থাকে, সেটিই bonus। উদাহরণ হিসেবে, ৪র্থ বিষয়ে A+ হলে Grade Point ৫.০০ এবং bonus ৩.০০। A হলে bonus ২.০০। A- হলে bonus ১.৫০। C, D বা F হলে bonus থাকে ০।
গ্রুপ অনুযায়ী এসএসসি বিষয়
এসএসসি পর্যায়ে সাধারণ বিষয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের আলাদা বিষয় থাকে। এই পার্থক্যটি ক্যালকুলেটরে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সব শিক্ষার্থীর বিষয় তালিকা এক নয়। তাই প্রথমেই নিজের গ্রুপ নির্বাচন করলে ইনপুটের তালিকা আপনার পরীক্ষার কাঠামোর কাছাকাছি থাকবে।
এই সংস্করণে ছয়টি সাধারণ আবশ্যিক বিষয় এবং গ্রুপের তিনটি বিষয় মিলিয়ে ৯টি মূল বিষয় ধরা হয়েছে। আপনার marksheet বা নির্দিষ্ট subject combination-এ পরিবর্তন থাকলে সেটিই চূড়ান্ত ধরে বিষয় নির্বাচন করা উচিত।
এসএসসি জিপিএ হিসাবের ধাপ
প্রথমে প্রতিটি মূল বিষয়ের নম্বর থেকে Grade Point নির্ধারণ করা হয়। এরপর ৯টি মূল বিষয়ের পয়েন্ট যোগ করে ৯ দিয়ে ভাগ করা হয়। ৪র্থ বিষয় থাকলে তার ২.০০-এর বেশি অংশ bonus হিসেবে যোগ করা হয়। শেষে ফল ৫.০০-এর বেশি হলে ৫.০০-তে সীমাবদ্ধ করা হয়।
সহজ একটি উদাহরণ
ধরা যাক ৯টি মূল বিষয়ের Grade Point-এর মোট যোগফল ৩৯.০০। ৪র্থ বিষয়ের Grade Point ৫.০০ হলে bonus হবে ৩.০০। তখন হিসাব হবে: (৩৯.০০ + ৩.০০) ÷ ৯ = ৪.৬৭। এখানে ৪র্থ বিষয়কে দশম মূল বিষয় হিসেবে ধরা হয়নি।
এই উদাহরণ থেকে বোঝা যায় কেন ৪র্থ বিষয়ের পুরো Grade Point সরাসরি গড়ের মধ্যে যোগ করা উচিত নয়।
নম্বর ইনপুট দেওয়ার নিয়ম
বাংলা বা ইংরেজির দুই পত্র মিলিয়ে পূর্ণমান ২০০ হলে দুই পত্রের মোট প্রাপ্ত নম্বর একসঙ্গে লিখুন এবং পূর্ণমান ২০০ দিন। ১০০ নম্বরের বিষয়ের জন্য পূর্ণমান ১০০ দিন। প্রাপ্ত নম্বর কখনো পূর্ণমানের বেশি দেবেন না।
একটি বিষয়কেই ৪র্থ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করুন। আপনার marksheet-এ যে বিষয়টি ঐচ্ছিক বা ৪র্থ বিষয় হিসেবে আছে, সেটিই নির্বাচন করা সবচেয়ে নিরাপদ।
F গ্রেড থাকলে হিসাব কীভাবে দেখাবে?
মূল বা বাধ্যতামূলক কোনো বিষয়ে F থাকলে শুধু গাণিতিক গড় দেখে উত্তীর্ণ ফল ধরে নেওয়া যাবে না। ৪র্থ বিষয়ে F হলে তার bonus ০ হয়। এই calculator মূলত সম্ভাব্য জিপিএ বোঝানোর জন্য। বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলই চূড়ান্ত।
কারা এই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন?
এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার আগে বিভিন্ন নম্বরের সম্ভাব্য প্রভাব বুঝতে এটি ব্যবহার করতে পারেন। অভিভাবক বা শিক্ষকও শিক্ষার্থীর দেওয়া নম্বর থেকে আনুমানিক জিপিএ যাচাই করতে পারেন। ফল প্রকাশের পরে marksheet-এর নম্বর মিলিয়ে গাণিতিক হিসাব যাচাই করার কাজেও এটি ব্যবহার করা যায়।