শতকরা নম্বর ক্যালকুলেটর
প্রতিটি বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর ও পূর্ণমান দিন। ক্যালকুলেটর মোট প্রাপ্ত নম্বরকে মোট পূর্ণমান দিয়ে ভাগ করে শতকরা নম্বর বের করবে।
শতকরা নম্বর কী?
পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থী মোট কত নম্বর পেয়েছে, সেটি পূর্ণমানের তুলনায় কত অংশ তা শতকরা নম্বর দিয়ে বোঝানো হয়। এর ফলে ভিন্ন পূর্ণমানের পরীক্ষার ফলও একই মানদণ্ডে দেখা যায়। যেমন ৮০ নম্বরের মধ্যে ৬৪ এবং ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮০, দুটিই ৮০ শতাংশ।
শতকরা নম্বর বের করার মূল নিয়ম খুব সহজ। প্রাপ্ত নম্বরকে পূর্ণমান দিয়ে ভাগ করতে হয়। এরপর ফলকে ১০০ দিয়ে গুণ করতে হয়। এই নিয়ম এক বিষয়ের পাশাপাশি একাধিক বিষয়ের মোট ফলের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা যায়।
এই ক্যালকুলেটর কীভাবে কাজ করে?
প্রথমে প্রতিটি বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর ও পূর্ণমান নেওয়া হয়। একাধিক বিষয় দিলে সব প্রাপ্ত নম্বর যোগ করে মোট প্রাপ্ত নম্বর এবং সব পূর্ণমান যোগ করে মোট পূর্ণমান বের করা হয়। এরপর মোট প্রাপ্ত নম্বরকে মোট পূর্ণমান দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করা হয়। এভাবে পাওয়া ফলই মোট শতকরা নম্বর। তাই পূর্ণমান আলাদা হলে শুধু বিষয়গুলোর শতাংশের সাধারণ গড় নেওয়া নয়, মোট নম্বরের ভিত্তিতে হিসাব করাই সঠিক পদ্ধতি।
শতকরা নম্বরের সূত্র
শতকরা নম্বর = (প্রাপ্ত নম্বর ÷ পূর্ণমান) × ১০০
ধরা যাক, একটি পরীক্ষায় ৮০ নম্বরের মধ্যে ৬৪ নম্বর পাওয়া গেছে। তাহলে শতকরা নম্বর হবে ৬৪ ÷ ৮০ × ১০০ = ৮০ শতাংশ।
একাধিক বিষয়ের মোট শতাংশ
একাধিক বিষয়ের পূর্ণমান এক না হলেও মোট শতাংশ বের করা যায়। ধরুন তিনটি বিষয়ে যথাক্রমে ৬০-এর মধ্যে ৪৫, ৮০-এর মধ্যে ৬৪ এবং ১০০-এর মধ্যে ৭৫ পেয়েছেন। মোট প্রাপ্ত নম্বর ১৮৪ এবং মোট পূর্ণমান ২৪০। তাই মোট শতকরা নম্বর হবে ১৮৪ ÷ ২৪০ × ১০০, অর্থাৎ প্রায় ৭৬.৬৭ শতাংশ।
এখানে ৪৫÷৬০, ৬৪÷৮০ এবং ৭৫÷১০০-এর তিনটি শতাংশের সাধারণ গড় নেওয়া হয়নি। কারণ তিনটি বিষয়ের পূর্ণমান আলাদা। মোট নম্বরের অনুপাতই মোট শতকরা নম্বর-এর জন্য উপযুক্ত।
শতকরা নম্বর ও GPA এক নয়
শতকরা নম্বর সরাসরি প্রাপ্ত নম্বর ও পূর্ণমানের সম্পর্ক দেখায়। GPA আবার নির্দিষ্ট grade এবং grade point-এর নিয়মে হিসাব করা হয়। তাই একই শতাংশের ফল বিভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থায় ভিন্ন grade বা GPA তৈরি করতে পারে। GPA হিসাবের জন্য আলাদা GPA ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন।
হিসাবের সময় যা খেয়াল করবেন
প্রাপ্ত নম্বর কখনো পূর্ণমানের বেশি দেওয়া যাবে না। কোনো বিষয়ের পূর্ণমান ২০০ হলে সেই বিষয়ের মোট প্রাপ্ত নম্বরও ২০০-এর মধ্যে হতে হবে। ব্যবহারিক বা ধারাবাহিক মূল্যায়নের নম্বর আলাদা নিয়মে যোগ হলে পরীক্ষার official marking scheme অনুসরণ করুন।
এই ক্যালকুলেটর একটি গাণিতিক হিসাব দেয়। কোনো শিক্ষা বোর্ড বা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ফলাফল থেকে তথ্য নেয় না। রাউন্ডিং, বিষয় কাঠামো বা বিশেষ নিয়ম থাকলে অফিসিয়াল মার্কশিট বা result-ই চূড়ান্ত।