হিসেবনির্মাণপ্লাস্টারের হিসাব

প্লাস্টারের হিসাব

প্লাস্টারের মোট ক্ষেত্রফল, পুরুত্ব, সিমেন্ট-বালুর অনুপাত এবং অপচয়ের হার দিন। ক্যালকুলেটর আনুমানিক কত সিমেন্ট ও বালি লাগতে পারে তা দেখাবে।

প্লাস্টারের ক্ষেত্রফল ও পুরুত্ব একটি দেয়ালের প্লাস্টার করা পৃষ্ঠ এবং তার পুরুত্ব দেখানো হয়েছে। পাশে cement ও sand mix ratio-এর ধারণা দেখানো হয়েছে। প্লাস্টারের ক্ষেত্রফল পৃষ্ঠ দেয়াল / সিলিং পুরুত্ব প্লাস্টার স্তর সিমেন্ট বালি ১ : ৪ চিত্রটি বোঝানোর জন্য; প্রকৃত পুরুত্ব ও অনুপাত আপনার দেওয়া input অনুযায়ী নয়।

এই ক্যালকুলেটর কীভাবে কাজ করে?

প্রথমে আপনার দেওয়া net plaster area ও পুরুত্ব থেকে wet mortar volume বের করা হয়। এরপর ১.৩৩ dry-volume factor ব্যবহার করে dry material volume হিসাব করা হয়। আপনার দেওয়া cement:sand ratio অনুযায়ী dry volume সিমেন্ট ও বালুর মধ্যে ভাগ হয়। শেষে wastage allowance যোগ করে সিমেন্টের কেজি ও ৫০ কেজির ব্যাগ এবং বালুর ঘনমিটার ও ঘনফুট দেখানো হয়।

হিসাবের সূত্র
Wet mortar volume = plaster area × plaster thickness
Dry volume = wet volume × ১.৩৩
অপচয়সহ dry volume = dry volume × (১ + wastage% ÷ ১০০)
সিমেন্টের volume = dry volume × (cement part ÷ মোট parts)
বালুর volume = dry volume × (sand part ÷ মোট parts)
সিমেন্টের ব্যাগ = সিমেন্টের volume × ১,৪৪০ ÷ ৫০

প্লাস্টারের পুরুত্ব ও mix ratio

একই area-তে পুরুত্ব বাড়লে mortar, cement এবং sand-এর প্রয়োজনও বাড়ে। তাই drawing বা specification-এ যে thickness দেওয়া আছে, সেটিই ব্যবহার করা ভালো। বাংলাদেশ PWD-এর ২০২২ Schedule of Rates-এ দেয়ালের জন্য minimum 12 mm cement-sand plaster-এর 1:4 এবং 1:6 item আছে। একই নথিতে ceiling, RCC column, beam, staircase surface ও অনুরূপ কাজে minimum 6 mm 1:4 plaster item-ও আছে। অর্থাৎ একটি মাত্র thickness বা ratio সব জায়গার জন্য ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

1:4 মানে ১ ভাগ সিমেন্ট ও ৪ ভাগ বালি। 1:6 মানে ১ ভাগ সিমেন্ট ও ৬ ভাগ বালি। এই ratio volume-এর ভিত্তিতে ব্যবহার করা হয়। প্রকল্পের specification, BOQ বা প্রকৌশলীর নির্দেশনা থাকলে সেটিই চূড়ান্তভাবে অনুসরণ করুন।

প্লাস্টারের ক্ষেত্রফল কীভাবে নেবেন?

দেয়াল বা সিলিংয়ের যে অংশে সত্যিই plaster হবে, সেটি net plaster area। দরজা, জানালা বা অন্য খোলা অংশ plaster না হলে সেই area বাদ দিন। একাধিক surface থাকলে সব net area যোগ করে মোট area দিতে পারেন। এই ক্যালকুলেটর gross wall area থেকে opening নিজে বাদ দেয় না।

একটি সহজ উদাহরণ

ধরা যাক, ১০০ বর্গফুট net plaster area, ১২ মিমি thickness, 1:4 mix এবং ৫% wastage নেওয়া হলো। প্রথমে wet mortar প্রায় ০.১১ মি³ হবে। ১.৩৩ factor প্রয়োগ করলে wastage-এর আগে dry volume প্রায় ০.১৫ মি³। ৫% allowance যোগ করলে cement-এর প্রয়োজন প্রায় ০.৯ ব্যাগ এবং বালু প্রায় ৪.৪ ঘনফুট হতে পারে। বাস্তবে পূর্ণ ব্যাগ কিনতে হলে supplier বা site requirement অনুযায়ী পরিমাণ round up করতে হবে।

হিসাব করার সময় কী খেয়াল করবেন?

প্লাস্টারের surface যত অসমান হবে, actual mortar consumption তত বাড়তে পারে। wall alignment, brick joint, repair patch, surface preparation, rebound এবং site handling-এর কারণেও পার্থক্য হতে পারে। তাই quantity estimate-এ একটি allowance রাখা হয়েছে।

এখানে ১.৩৩ factor এবং ১,৪৪০ কেজি/মি³ cement density estimating assumptions। এগুলো actual site yield-এর নিশ্চয়তা নয়। বড় কাজের ক্ষেত্রে approved specification, trial mix বা project quantity estimate-এর সঙ্গে ফল মিলিয়ে নিন।

গুরুত্বপূর্ণ: এটি প্লাস্টারের cement ও sand-এর প্রাথমিক quantity estimate। ১.৩৩ dry-volume factor, ১,৪৪০ কেজি/মি³ cement density, ৫০ কেজির bag এবং আপনার দেওয়া volumetric mix ratio-এর ওপর ফল নির্ভর করে। শ্রম, scaffolding, curing water, additives, surface preparation ও material price এতে ধরা হয়নি। বাংলাদেশ PWD-এর Schedule of Rates 2022 (Revised), Chapter 15-এর plaster item-গুলো বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটের তথ্য যাচাইয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। চূড়ান্ত কাজের জন্য project specification, drawing এবং প্রকৌশলীর নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

সাধারণ প্রশ্ন

এই ক্যালকুলেটর কীভাবে কাজ করে?

প্রথমে প্লাস্টারের ক্ষেত্রফল ও পুরুত্ব থেকে wet mortar volume বের করা হয়। এরপর ১.৩৩ dry-volume factor ব্যবহার করে dry material volume হিসাব করা হয়। আপনার দেওয়া cement:sand ratio অনুযায়ী এই volume সিমেন্ট ও বালুর মধ্যে ভাগ হয়। শেষে wastage allowance যোগ করে সিমেন্টের কেজি ও ৫০ কেজির ব্যাগ এবং বালুর ঘনমিটার ও ঘনফুট দেখানো হয়।

১২ মিমি পুরুত্ব কি সব প্লাস্টারের জন্য ঠিক?

না। পুরুত্ব surface, specification ও কাজের ধরন অনুযায়ী বদলাতে পারে। বাংলাদেশ PWD-এর ২০২২ Schedule of Rates-এ দেয়ালের জন্য minimum 12 mm plaster-এর 1:4 এবং 1:6 item আছে। একই নথিতে ceiling, RCC column, beam ও অনুরূপ surface-এর জন্য minimum 6 mm 1:4 plaster item-ও আছে। তাই প্রকল্পের specification থাকলে সেটিই অনুসরণ করুন।

1:4 ও 1:6 mix ratio-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

1:4 মানে ১ ভাগ সিমেন্ট ও ৪ ভাগ বালি। 1:6 মানে ১ ভাগ সিমেন্ট ও ৬ ভাগ বালি। একই area ও thickness হলে 1:4-এ সিমেন্টের পরিমাণ বেশি হবে। কোন ratio ব্যবহার করবেন তা কাজের specification ও প্রকৌশলীর নির্দেশনার ওপর নির্ভর করে।

প্লাস্টারের ক্ষেত্রফল কীভাবে দেব?

দেয়ালের net plaster area ব্যবহার করুন। দরজা, জানালা বা অন্য খোলা অংশ plaster না হলে সেগুলোর area বাদ দিন। একাধিক দেয়ালের area যোগ করে মোট net area-ও দিতে পারেন।

১.৩৩ factor কেন ব্যবহার করা হয়েছে?

Wet mortar থেকে dry cement ও sand-এর আনুমানিক bulk volume বের করতে ১.৩৩ একটি প্রচলিত estimating factor। এটি কোনো universal material constant নয়। বালুর grading, moisture, batching, compaction এবং site condition অনুযায়ী actual yield আলাদা হতে পারে।

অপচয়ের হার কত রাখব?

কাজের ধরন ও site condition অনুযায়ী এটি বদলায়। এখানে ৫% একটি editable planning allowance হিসেবে রাখা হয়েছে। এটি কোনো বাধ্যতামূলক standard নয়। আপনার প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বা estimate অনুযায়ী পরিবর্তন করুন।

এই ক্যালকুলেটর কি প্লাস্টারের দামও হিসাব করে?

না। এটি শুধু cement ও sand-এর quantity estimate দেয়। শ্রম, scaffolding, curing water, additives, surface preparation এবং স্থানীয় material price এতে ধরা হয়নি।